রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র কি ইসলাম সমর্থন করে?

SAUDI ARABIAরাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র কি ইসলাম সমর্থন করে? রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্রের দলীল কুরআনের বা হাদিসের কোথায় আছে?

উত্তর: সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্‌র।

● কুরআনে আল্লাহ্‌ বলছেন:

মূসার পরে তুমি কি বনী ইসরাঈলের একটি দলকে দেখনি, যখন তারা বলেছে নিজেদের নবীর কাছে যে, আমাদের জন্য একজন বাদশাহ (রাজা) নির্ধারিত করে দিন যাতে আমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করতে পারি। নবী বললেন, তোমাদের প্রতিও কি এমন ধারণা করা যায় যে, লড়াইর হুকুম যদি হয়, তাহলে তখন তোমরা লড়বে না? তারা বলল, আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা আল্লাহর পথে লড়াই করব না। অথচ আমরা বিতাড়িত হয়েছি নিজেদের ঘর-বাড়ী ও সন্তান-সন্ততি থেকে। অতঃপর যখন লড়াইয়ের নির্দেশ হলো, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তাদের সবাই ঘুরে দাঁড়ালো। আর আল্লাহ তা’আলা জালেমদের ভাল করেই জানেন। আর তাদেরকে তাদের নবী বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ (রাজা) সাব্যস্ত করেছেন। তারা বলতে লাগল, তা কেমন করে হয় যে, তার শাসন চলবে আমাদের উপর। অথচ রাষ্ট্রক্ষমতা (রাজতন্ত্র) পাওয়ার ক্ষেত্রে তার চেয়ে আমাদেরই অধিকার বেশী। আর সে সম্পদের দিক দিয়েও সচ্ছল নয়। নবী বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর তাকে পছন্দ করেছেন এবং স্বাস্থ্য ও জ্ঞানের দিক দিয়ে প্রাচুর্য দান করেছেন। বস্তুতঃ আল্লাহ তাকেই রাজ্য (রাজতন্ত্র) দান করেন, যাকে ইচ্ছা। আর আল্লাহ হলেন অনুগ্রহ দানকারী এবং সব বিষয়ে অবগত…[সূরা বাকারাহ্‌, আয়াত: ২৪৬-২৪৭]

যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়, তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে পয়গম্বর সৃষ্টি করেছেন, তোমাদেরকে রাজ্যাধিপতি (রাজা) করেছেন এবং তোমাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছেন, যা বিশ্বজগতের কাউকে দেননি…[সূরা আল-মাইদা, আয়াত-২০]

নাকি যাকিছু আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন সে বিষয়ের জন্য মানুষকে হিংসা করে। অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম আর তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল রাজ্য (রাজতন্ত্র)…[সূরা আন-নিসা, আয়াত-৫৪]

● উপরের এই আয়াত গুলি থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাজতন্ত্র ইসলামে বৈধ, কারন কুরআনে আল্লাহ্‌ বলছেন: “আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ (রাজা) সাব্যস্ত করেছেন”… [সূরা বাকারাহ্‌, আয়াত: ২৪৭]

তাই এ নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে না যে রাজতন্ত্র ইসলামে বৈধ কিনা। যেহেতু কুরআনে স্বয়ং আল্লাহ্‌ একজনকে রাজা বানিয়েছেন, বলে উল্লেখ করেছেন। তাই অবশ্যই আমাদের বিশ্বাস করা ফরয যে ইসলামে রাজতন্ত্র বৈধ।

তাই প্রশ্ন হতে পারে, বর্তমানে অনেক দেশ রাজতন্ত্র উঠিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র শুরু করছে, এটা কতটুকু বৈধ?

● গণতন্ত্র ইসলামে বৈধ নয়, এবং কুরআন এবং হাদিসে এর কোন উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ্‌ আমাদের গণতন্ত্র শিখিয়ে জাননি। আর লিংকনের আগে কোন ইতিহাসে গণতন্ত্র পাওয়া যায় না। অর্থাৎ লিংকনের আগে কোন মুসলিম দেশ গণতন্ত্র মেনেছে এমন পাওয়া যাবে না, এমন কি অমুসলিম দেশও পাওয়া যাবে না।

গণতন্ত্র খৃষ্টানদের থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে, তাই এটা মানা হবে তাদের অনুকরণ করা, যা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) করতে নিষেধ করেছেন। আর যারা তাদের অনুসরণ করবে তারা তাদের দলভুক্ত বলে পরিগণিত হবে। তাই প্রশ্ন হতে পারে এখন তাদের বিরুদ্ধে কি জিহাদ করতে হবে?

● রাষ্ট্র প্রধান যদি মুসলিম হয়, নামায পড়তে বাঁধা সৃষ্টি না করে, শির্‌ক করতে বাধ্য না করে এবং তাদের দ্বারা স্পষ্ট কুফুরি কাজ হচ্ছে যদি প্রমান না হয়, তবে সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না বরং তাদেরই মানতে হবে। তবে তাদেরকে ইসলামের জ্ঞান দিতে হবে। বিরোধী দল হয়ে, সত্য-মিথ্যা বলে, তাদের বিরুদ্ধাচরণ করা যাবে না।

তবুও অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে ইসলামে গণতন্ত্র হারাম।

About আহমাদ মুসা

আমি একজন ভাল মুসলিম হতে চাই । এজন্য ইসলাম নিয়ে আমার সাধ্যমত পড়াশুনা করার চেষ্টা করি । আমি ইসলামের মূল গ্রন্থ পড়তে বেশি পছন্দ করি । অন্যান্য আলেম , ইমামদেরকে শ্রদ্ধা করি কিন্তু কাউকে অন্ধভাবে অনুসরণ করি না । কুরআন ও হাদীসের অনুকুলে তাদের কথা গ্রহণ করি কিন্তু তাদের ইজতিহাদে কোন ভুল থাকলে সেটা অবশ্যই প্রত্যাখান করি । আর মনে করি এটাই ঈমনের দাবী । তবে তাদেরকে কোন ভুল বুঝি না । তারা তাদের ইজতিহাদের জন্য অবশ্যই একটি নেকী পাবেন । ইনশা-আল্লাহ ।
This entry was posted in যুগ-জিজ্ঞাসা-প্রশ্নোত্তর and tagged , . Bookmark the permalink.

27 Responses to রাজতন্ত্র বা গণতন্ত্র কি ইসলাম সমর্থন করে?

  1. আমি এই পোস্টের সাথে দ্বীমত পোষণ করি।

    যুক্তি ১ >> আপনি বলেছেন “উপরের এই আয়াত গুলি থেকে স্পষ্ট হয় যে, রাজতন্ত্র ইসলামে বৈধ, কারন কুরআনে আল্লাহ্‌ বলছেন: “আল্লাহ তালূতকে তোমাদের জন্য বাদশাহ (রাজা) সাব্যস্ত করেছেন”… [সূরা বাকারাহ্‌, আয়াত: ২৪৭]”
    এখানে উপরের সকল আয়াতই পূর্ববর্তী উম্মতের জন্যে প্রজয্য। এমন অনেক কিছুই আছে যা পূর্ববর্তী উম্মতের (যেমন বনিইসরাইল) জন্যে হালাল ছিল কিন্তু আমাদের জন্যে নয়। হযরত ইউসুফ (আ.)-কে তাঁর পিতা ও ভাইগণ সিজদা করেছেন বলে বলা যাবে না যে উম্মতে মুহাম্মাদির জন্যেও সিজদা করা জায়েয।

    যুক্তি ২ >> আপনি বলেছেন গণতন্ত্র হারাম কারণ এটা হালাল হবার পক্ষে কোনো দলিল নেই। আমার জানা মতে উসুলে ফিকহ দু’টি বিষয়কে ভিন্নভাবে হিসেব করে। (১) ইবাদাত [ধর্ম সম্পর্কিত] ও (২) মুয়ামলাত [ইহ-জীবন সম্পর্কিত]। ইবাদাতের বেলায় উল্লেখকৃত বিষয় বাদে সব হারাম (বিদ’আত) আর মুয়ামলাতের ব্যপারে উল্লেখকৃত বিষয় বাদে সব হালাল (মুবাহ)।
    গণতন্ত্র একটি শাসন ব্যবস্থা যা মুয়ামলাতের মধ্যে পরে। একে হারাম ঘোষণা করতে হলে সুস্পষ্ট দলিল প্রয়োজন।

  2. তা ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে বলতে পারি যে – একনায়কতন্ত্র আর রাজতন্ত্রের মাঝে তফাত রয়েছে।
    একনায়কতন্ত্র মানে – সকল ক্ষমতা এক ব্যেক্তির হাতে। নবী (সা.) এবং খুলাফায়ে রাশেদুন একনায়কতন্ত্র চালিয়েছেন।
    রাজতন্ত্র মানে – নতুন শাসক হবে পুরাতন শাসকের রক্ত সম্পর্কিয় আত্বিয়। অন্য যোগ্য ব্যক্তি থাকলেও সে রাজা হতে পারবে না। নবী (সা.) এবং খুলাফায়ে রাশেদুন কেউই রাজতন্ত্র চালান নি। বরং তাঁরা মৃত্যু সজ্যায় থাকা কালে যোগ্য ব্যক্তিদের একটা কাউন্সিল গঠণ করেন এবং ওসিয়ত করেন তাঁরা যেন নিজেদের মধ্য থেকে একজন শাসক নির্বাচন করে নেন।

    এবং বলা হয়ে থাকে যে গণতন্ত্রে ৫০টির ও বেশি প্রকারভেদ রয়েছে। ইরানিরাও দাবি করে তারা গণতান্ত্রীক। পাকিস্তানীরাও, চাইনিজরাও এবং অয়ামেরিকানরাও। তবে সবই ভিন্ন ভিন্ন।

    গণতন্ত্রে মৌলিক দিক যদি বলা হয় “নির্বাচনের মাধ্যমে শাসক নির্ধারণ করা”, তবে নবী (সা.) এবং খুলাফায়ে রাশেদুনের শাসনতো তাই ছিল। পার্থক্য হচ্ছে – সাধারণ গণতন্ত্রে যে কেউ ভোট দিতে পারে এবং যে কেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। ইসলামিক গণতন্ত্রে কেবল জ্ঞানী, অভিজ্ঞ এবং যোগ্য ব্যক্তিরাই ভোট দিতে এবং নির্বাচনে অংশ নিতে পারে।
    গণতন্ত্রের আদি গুরু প্লেটো আমাদের নবী (সা.) এর আগমনের ১০০০ বছর আগে যে গণতন্ত্রের ধারণা প্রদান করে গেছেন তার সাথে ইসলামিক সিস্টেমের অনেক মিল পাওয়া যায়। প্লেটোর মতে সকলের গণতন্ত্র (বর্তমান বিশ্বের পশ্চিমা স্টাইলের গণতন্ত্র) হচ্ছে নিকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা। বরং উত্তম শাসক হবেন “দার্শনিক রাজা” (জ্ঞানী, অভিজ্ঞ, আলেম রাজা)। বিস্তারীত জানতে পড়ুন প্লেটোর গ্রন্থ “রিপাব্লিক”-এর বিভিন্ন সারাংশ। (ইন্টার্নেটে খুজে দেখতে পারেন)।

  3. সকল রাজতন্ত্রই একনায়কতন্ত্র, কিন্তু সকল একনায়কতন্ত্রই রাজতন্ত্র নয়।

  4. আপনি আরও বলেছেন – ” গণতন্ত্র ইসলামে বৈধ নয়, এবং কুরআন এবং হাদিসে এর কোন উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ্‌ আমাদের গণতন্ত্র শিখিয়ে যাননি। আর লিংকনের আগে কোন ইতিহাসে গণতন্ত্র পাওয়া যায় না। অর্থাৎ লিংকনের আগে কোন মুসলিম দেশ গণতন্ত্র মেনেছে এমন পাওয়া যাবে না, এমন কি অমুসলিম দেশও পাওয়া যাবে না।
    গণতন্ত্র খৃষ্টানদের থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে, তাই এটা মানা হবে তাদের অনুকরণ করা, যা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) করতে নিষেধ করেছেন। আর যারা তাদের অনুসরণ করবে তারা তাদের দলভুক্ত বলে পরিগণিত হবে। তাই প্রশ্ন হতে পারে এখন তাদের বিরুদ্ধে কি জিহাদ করতে হবে?”

    এখানে গণতন্ত্র তেমনই ভাবে মুয়ামলাত (পার্থিব বিষয়) যেমন ভাবে প্লেনে চড়া। এখন যদি আমি বলি -
    “প্লেনে চড়া ইসলামে বৈধ নয়, এবং কুরআন এবং হাদিসে এর কোন উল্লেখ নেই। রাসূলুল্লাহ্‌ আমাদের প্লেনে চড়া শিখিয়ে যাননি। আর Wright Brothers-এর আগে কোন ইতিহাসে প্লেনে চড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। অর্থাৎ Wright Brothers আগে কোন মুসলিম দেশ প্লেনে চড়েছে এমন পাওয়া যাবে না, এমন কি অমুসলিম দেশও পাওয়া যাবে না।

    প্লেনে চড়া খৃষ্টানদের থেকে আবিষ্কৃত হয়েছে, তাই এটা মানা হবে তাদের অনুকরণ করা, যা রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) করতে নিষেধ করেছেন। আর যারা তাদের অনুসরণ করবে তারা তাদের দলভুক্ত বলে পরিগণিত হবে। তাই প্রশ্ন হতে পারে এখন তাদের বিরুদ্ধে কি জিহাদ করতে হবে?”

    দেখুনতো কেমন দাঁড়ায় ব্যাপারটা!!!

  5. ইসলামের ইতিহাসে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায়।
    ১. প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) শাসক হন মদিনায় হিজরতের পর। মক্কায় তিনি চাইলে জবর-দখল করে শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারতেন কিন্তু সেখানে জনগণের ম্যন্ডেট ছিল না। মদিনার আনসারগণ স্বেচ্ছায় প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে আমন্ত্রণ জানালে তিনি ক্ষমতায় আধিষ্ট হন।
    ২. প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) কাওকে ওসিয়তের দ্বারা ওয়ারিশ করে যান নি। আবু বকর (রা.) কে হযরত উমর (রা.) প্রার্থী হিসেবে দ্বার করান এবং সকল গ্রুপের (বনু হাসিম, বনু আব্দে মান্নাফ) সম্মতি (বায়াত) ক্রমে খলিফা পদে নিযুক্ত হন।
    ৩. আবু বকর (রা.) ওসিয়ত করে উমর (রা.)-কে তাঁর উত্তরসূরি নিয়োগ দিয়ে যান।
    ৪. উমর (রা.) মৃত্যু শয্যায় থাকা কালে ৬ জন যোগ্য ব্যক্তির (আব্দুর রাহমান ইবন আওফ, সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস, উসমান ইবন আফফান, আলী ইবন আবুতালেব, যুবায়ের বিন আল-আওয়াম, ও তালহা ইবন ওবায়দুল্লাহ রাযিয়াল্লাহুতা’ল আনহুম) একটি কাউন্সিল গঠন করেন যেন তাঁরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে শাসক নির্বাচন করে নেন।
    ৫. উসমান (রা.)-কে দুষ্কৃতিকারীরা হত্যা করে। পরে সকলের অনেক অনুরোধের পর আলী (রা.) শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
    তার পর থেকে শুরু হয় রাজতন্ত্র। ইসলামে রাজতন্ত্র থিওরিতে বিশ্বাসী হচ্ছে মূলত শিয়ারা। তারাই বলে থাকে যে – নবী (সা.)-এর পর একমাত্র যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন আলী (রা.) এবং তাঁর পরে হাসান-হোসেন (রা.) কারণ তাঁরা নবী (সা.)-এর রক্ত।

    ফলে এ কথা বলা যাবে না যে কেবল এক ধরণের শাসন ব্যবস্থাই ইসলামে বৈধ আর বাকি গুলা হারাম। তবে,
    > শাসক একজনই হবেন, উম্মতের (বা নাগরিকদের) অধিকাংশের ম্যান্ডেট (বায়াত) সংগ্রহ করতে হবে খলিফা হতে হলে।
    > সকল ক্ষমতা শাসকের হাতে থাকবে, তবে তিনি জ্ঞানীদের নিয়ে মজলিসে শুরা গঠন করবেন (আধুনিক ভাষায় উপদেষ্টা পরিষদ) এবং রাষ্ট্রীয় কাজে তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
    > শাসক নির্বাচিত হবেন আজীবনের জন্যে। শাসক জালিম হলেও তাকে মান্য করতে হবে যতদিন শাসক সালাত তরক না করে বা মুরতাদ না হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতির/খলিফার অভিশংসন (Impeachment) পদ্ধতি ইসলামে নেই। খলিফা নির্বাচনের কোনো ধরা বাধা নিয়ম নেই। তবে খলিফা হতে হলে হাদিসে বর্ণিত যোগ্যতা (দীনি ও পার্থিব এলেম, রাষ্ট্রীয় কাজ পরিচালনার ও উম্মতের নেতৃত্ব দানের অভিজ্ঞতা, বয়সের পরিপক্বতা…) গুলোর অধিকারী অবশ্যই হতে হবে।
    > কোনো নারী বা অমুসলিম শাসক হতে পারবে না।
    > আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা খলিফার নিকট যা তিনি মজলিসে শূরার পরামর্শ নিয়ে করবেন। এখানে ইসলামের আইনের সংশোধন করা হবে না। ইসলামের আইনের ভুল বখ্যার সংশোধন করা হবে। উদাহরণ:- আইন – “এক ফোঁটাও এলকোহল মিশ্রিত পানিয় পান, বিক্রয়, ক্রয়, তৈরি ইত্যাদি শাস্তি যোগ্য অপরাধ”। কিন্তু যদি পরবর্তীতে গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে ০.৫% এর কম এলকোহল মিশ্রিত পানিয় হারাম নয় তখন এ আইন সংশোধন করা হবে। তার মানে এই নয় যে ইসলামে সংশোধন আনা হয়েছে। বরং ইসলামের মানবিয় বখ্যায় সংশোধন আনা হয়েছে।
    [তবে মুয়ামলাত হিসেবে এখানে পরিবর্তন আনলে তা অবৈধ হবে কি না আমার জানা নেই]
    > প্রধান বিচারপতি হবেন রাষ্ট্রপতি/খলিফা নিজে। অর্থাৎ Separation of Judiciary ইসলামে নেই।
    [তবে মুয়ামলাত হিসেবে এখানে পরিবর্তন আনলে তা অবৈধ হবে কি না আমার জানা নেই]

    সময়ের স্বল্পতার কারণে কোনো দলিল দিতে পারলাম না তবে এগুলো আমার রাষ্ট্রবিজ্ঞান স্নাতক সম্মান ছাত্র জীবনে (২০০৭-বর্তমান) বিভিন্ন সময় কুর’আন-হাদিস-ইসলামিক ইতিহাস ও ইসলামিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে পড়তে গিয়ে অনুধাবন করা বিষয়। ইনশা-আল্লাহ, এ নিয়ে একটা বিস্তারিত আর্টিকেল লিখবো।

  6. এখানে নারীর খেলাফত ও নারী নেতৃত্বে পার্থক্য রয়েছে। কুর’আন-হাদীস থেকে জানাযায় নারীর শাসন কখনও কল্যাণকর হতে পারে না।
    অপর দিকে নারীর নেতৃত্বকে (রাজনীতিতে, সামরিক অভিজানে, শিক্ষা ক্ষেত্রে, উপদেষ্টা পরিশদে) নিষিদ্ধ করার দলিল আমি কোথাও দেখি নি। বরং হযরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) ফিকহ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদান করেন। উটের যুদ্ধে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন।

    এ বিষয়ে বিস্তারীত গবেষণার অবকাশ রয়েছে।

  7. এখানে একটি জটিল প্রশ্ন থেকে যায় – “নবী (সা) ও খুলাফায়ে রাশেদীন (রা.) যেহেতু একনায়কতন্ত্র (সকল ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে ন্যাস্ত) চালিয়েছেন তবে কি গণতান্ত্রীক পদ্ধতির আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ পৃথক করা যাবে না? এবং শাসন বভাগের ক্ষমতা (মন্ত্রীপরিষদ শাসিত ব্যবস্থার মত) বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বন্টন করা যাবে না? আইন বিভাগের ক্ষমতা মজলিসে শূরার (পার্লামেন্টের) হাতে হস্তান্তর করা যাবে না?”

    এই বিষয় তিনটি হারাম ঘোষণা করা খুব কঠিণ কাজ হবে এবং আমি যে কয়টা বই পড়েছি সেখানে লেখক দের খুব সংকীর্ণ দৃষ্টিভংগি প্রকাশ পেয়েছে। তাদের সকলের মূল কথা একটাই – “যেহেতু “নবী (সা) ও খুলাফায়ে রাশেদীন (রা.) গণতন্র দিয়ে যান নি তাই তা হারাম”। কিন্তু নবী (সা) ও খুলাফায়ে রাশেদীন (রা.) তো ইন্টার্নেট ও দিয়ে যান নি, ব্লগ দিয়ে যান নি, প্লেন, গাড়ি, ইসলামি ব্যংক, চা-কফি দিয়ে যান নি। ফলে আমি বিষয়টি নিয়ে দিধাগ্রস্থ।

    • আহমাদ মুসা says:

      সিফাত ভাই , আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার জন্য একটু কঠিনই হয়ে গেছে । আমি এব্যাপারে ঘাঁটাঘাঁটি করছি । আল্লাহ পাক আমাকে বিষয়টি সম্পর্কে ভালভাবে জানার তাওফীক দান করুন । আমীন ।
      আপাতত: আপনাকে মতিউর রাহমান মাদানীর দুটি লেকচারের লিংক দিচ্ছি :
      ১- গণতন্ত্র কি ও কেন?
      ২-গণতন্ত্র কেন কুফরী মতবাদ
      আর আমি বিষয়টি নিয়ে আলেমের স্মরণাপন্ন হয়েছি । তাদের থেকে উত্তর পেলে ইনশা-আল্লাহ আমি এখানে দিয়ে দিব । আল্লাহ পাক আমাদের সবাই সরল-সঠিক পথ দেখান । আমিন ।

      • বিষয়টি আসলেই জটিল। আজ আমি আমার এক বন্ধু শায়েখ মুহাম্মাদ ইউসুফ এর সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করলাম। সেখানেও কোনো পাকা উত্তর বের হল না।

        তবে একটা বিষয়ে সকলেই একমত যে – প্রচলিত পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্র হারাম। কেনোনা সেখানে জ্ঞানী ও জ্ঞানহীনকে সমান ধরা হয়। অথচ কুর’আনে আল্লাহ (সুব.) বলেন অন্ধকার আর আলো যেমন সমান নয়, রাত আর দিন যেমন সমান নয়, মৃত আর জীবিত যেমন সমান নয়, তেমনই জ্ঞানী আর জ্ঞানহীন কখনও সমান হতে পারে না।
        আর মুসলিম ও অমুসলিমও সমান নয়।

  8. আহমাদ মুসা says:

    সিফাত ভাই , একজন আলেমের কাছে অনলাইনে আপনার প্রশ্নগুলি করেছিলাম । তারা সরাসরি কোন উত্তর না দিয়ে এভাবে দিয়েছে : পড়ে দেখুন :
    এই প্রশ্ন-উত্তরটি পড়ুন এবং আপনার প্রশ্ন পুনরায় করুন।
    গনতন্ত্র এবং গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংসদকে মানা, নির্বাচনে ভোট দেয়া কি শির্‌ক?

    সকল প্রসংসা একমাত্র আল্লাহ্‌র।

    গনতন্ত্র মানব রচিত বিধান, অর্থাৎ মানুষ, মানুষের দ্বারা শাসিত। যা ইসলাম পরিপন্থি, কারন শাসন কাজ আল্লাহ্‌র, সর্ব সম্মানিত, সর্ব শক্তিমান। আইন প্রনয়ন ক্ষমতা কোন মানুষকে দেওয়া জায়েয নয়, সে যেই হোক।

    ম’উসুআত আল-আদ’আন ওয়াল-মাদহাহিব আল-মুয়া’সিরাহ্‌ (২/১০৬৬, ১০৬৭) -তে বলা হয়েছে:
    নিঃসন্দেহ ভাবে গনতান্ত্রিক পদ্ধতি একটি আধুনিক পন্থার শির্‌ক, আনুগত্যের ক্ষেত্রে এবং অনুস্মরণের ক্ষেত্রে অথবা এটা সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করে এবং তার একমাত্র আইন প্রণয়নের অধিকার অস্বীকার করে এবং এই অধিকার দেওয়া হয়ে থাকে মানুষকে। আল্লাহ্‌ বলেছেন:

    তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে নিছক কতগুলো নামের এবাদত কর, সেগুলো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দাদারা সাব্যস্ত করে নিয়েছে (অবৈধ ভাবে), আল্লাহ এদের কোন প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। আল্লাহ ছাড়া কারও বিধান দেবার ক্ষমতা নেই। তিনি আদেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারও এবাদত করো না। এটাই সরল পথ। কিন্তু অধিকাংশ লোক তা জানে না…[সূরা ইউসুফ, আয়াত-৪০]

    আল্লাহ ছাড়া কারো নির্দেশ চলে না…[সূরা আল-আন’আম, আয়াত-৫৭]

    গনতান্ত্রিক আইন যদি ইসলামের কোন ক্ষতি না করে, তবে তা মানা যাবে। কিন্তু গনতান্ত্রিক আইন যদি ইসলামের ক্ষতি করে তবে তা মানা জায়েয নয়।

    ভোট দেওয়া, ক্ষেত্র বিশেষে বিভিন্ন রকম হতে পারে, ভোট দেওয়ার মাধ্যমে যদি দুই নেতার মধ্য থেকে ভাল নেতাকে নির্বাচনের জন্য দেওয়া হয়, যিনি ইসলামের ক্ষতি করবেন না বা ইসলামকে প্রাধান্য দিবেন বা ইসলাম কায়েম করবেন, এই ক্ষেত্রে এই ধরনের নেতাকে ভোট দেওয়া যাবে।

    কিন্তু ভোট দিয়ে যদি কোন ফল না পাওয়ার আশংকা থাকে অর্থাৎ উভয় নেতাই ইসলামের শত্রু বা ইসলামকে প্রাধান্য দেয় না তবে, এরূপ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    আল্লাহ্‌ই সর্ব ক্ষেত্রে ভাল জানেন।

    • আপনার কাজের জন্যে আল্লাহ (সুব.) আপনাকে উত্তম জাযা দান করুক। আমীন।
      আসলে এখানে মূল জটিলতাটি হচ্ছে “শাসন ব্যবস্থা কি ইবাদাত নাকি মু’আমলাত?”
      যদি বলাহয় ইবাদাত, তবে আমাদেরকে হুবহু রাসূল (সা.) ও তাঁর খলিফাগণের (রা.) শাসনের মত শাসন ব্যবস্থার জন্যে কাজ করতে হবে। অন্য সকল ব্যবস্থাই বিদ’আত তথা হারাম।
      আর যদি বলাহয় মু’আমলাত, তবে যেহেতু রাসূল (সা.) কোনো নির্দিষ্ট শাসন ব্যবস্থার কথা বলে যান নি, বা গণতন্ত্রের (বা অন্য কোনো শাসন ব্যবস্থার) বিরোধীতা করে যন নি সেহেতু এই বিষয়ে আমাদেরকে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে (যেমন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা করে থাকি)।

      আশা করি এ বিষয় নিয়ে আরো সরাসরি কোনো আলোচনা হলে জানাবেন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

    • আর আপনার সংগ্রহিত উত্তরে শাসন ব্যবস্থার চেয়ে আইনের উপর বেশু গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। আমরা যদি সাধারণ গণতন্ত্র রেখেই সংবিধানে ২টি ধারা ঢুকিয়ে দিলেই তো গণতন্ত্র হালাল হয়ে যাবে -
      ধারা ১: “সকল ক্ষমতার উৎস আল্লাহ, সার্বভৌমত্ব তাঁরই হাতে। খলিফা/আমির/রাষ্ট্রপতি কেবল তাঁর প্রতিনিধি/খলিফা
      ধারা ২: “পার্লামেন্ট/মজলিসে-শূরায় সকল আইন ইসলামি শরীয়া অনুষারেই বাস্তবায়িত হবে, ইসলামি শরীয়া পরিপন্থী সকল আইন অসাংবধানিক বিধায় অকার্যকর বলে গণ্য হবে।

  9. রিয়াজ খান says:

    আসসালামু আলাইকুম ভাইরা। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান দিয়ে যতটুকু মনে হচ্ছে যে গণতান্ত্রিক সংবিধান যদি শরীয়াহ্‌ ভিত্তিক অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ্‌ ভিত্তিক হয় তবে সেই গণতন্ত্রে কোন আপত্তি নেই। মানুষ রচিত কোন সংবিধান আসলে শরীয়াহ পরিপন্থি। আইন হবে একমাত্র আল্লাহ্‌’র, আর কারও নয়। মানুষ ভুলের উর্দ্ধে নয়, কাজেই মানব রচিত সংবিধানও ভুলের উর্দ্ধে নয় ( এই কথা প্রকাশ্যে বললে নির্ঘাৎ দেশদ্রোহী হয়ে যাব :/ )। ইসলামিক শাসন ব্যবস্থায় রাজতন্ত্র নয়, খেলাফত ব্যবস্থা চলে আসছিল যতটুকু মনে হয়।

    • আপনি বলেছেন: “গণতান্ত্রিক সংবিধান যদি শরীয়াহ্‌ ভিত্তিক অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ্‌ ভিত্তিক হয় তবে সেই গণতন্ত্রে কোন আপত্তি নেই।”
      আপনার বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি কী? কোনো দলিল (আয়াত/হাদিস) দেখাতে পারবেন কী?

    • তা ছাড়া, গণতন্ত্র কীভাবে শরীয়াহ্‌ ভিত্তিক হতে পারে যেখানে আমরা জানি যে “নবী (সা.) খুলাফায়ে রাশেদীন (রা.) গণতন্ত্র চালান নি”?

  10. আপনারা ছিন্ন-বিছিন্ন ভাবে আলোচনা করছেন…একটি-একটি ধাপ নিয়ে আলোচনা করুন ভাল বুঝতে পারবেন।
    প্রথম হচ্ছে: খলীফা/রাজা/প্রধান মন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়া কি এক?
    কিছু বিষয় এর মধ্যে আসবে যা হচ্ছে, এই নির্বাচন কারা করতে পারে, অর্থাৎ ভোট/মত কারা দিবে, নির্বাচিত ব্যক্তি কতদিন ক্ষমতায় থাকবে। কোন বিরোধী দল থাকবে কিনা তাকে অপসারণের জন্য, নতুন ভাবে একে গণতন্ত্র নাম করন করা যাবে কিনা ইত্যাদি…উল্লেখ্য পূর্ববর্তী উম্মতের সুন্নত শাসক নির্বাচনের জন্য গ্রহণ যোগ্য, কারণ এতে কোন পরিবর্তন হয় নি।

    ইমাম মাহ্‌দীর বিষয়টি উল্লেখ করে দেই। সেটা হচ্ছে যে তিনি, রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) এর বংশধর এবং তিনি মাকামে ইব্রাহীমের সামনে, হক্ক পন্থি ব্যক্তিগন তার হাতে বায়াত গ্রহণ করে তাকে রাজা করবেন, যার নেতৃত্বে যুদ্ধ হবে। তখনকার রাজ বংশীয়রা নেতৃত্বের জন্য মারা-মারি করবেন। যা ফলেই এই ঘটনা ঘটবে।

    পূর্ববর্তীদের ইতিহাস আমাদের আছে এবং ভবিষ্যতের তথ্যও আছে, তাই বর্তমানের শূন্যস্থান পূরণের তেমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

    অতীত……বর্তমান??? (………???)……ভবিষ্যৎ

    • সুন্দর উত্তরের জন্যে আল্লাহ আপনাকে জাযায়ে খায়র দান করুক! আমীন।
      মূল প্রশ্ন একটা! শাসন ব্যবস্থা ও শাসক নির্বাচন কি ইবাদাত না মু’আমলাত?

      • মিলাদ পড়া বিদ’আত, কিন্তু মিলাদে যা করা হয় তা হচ্ছে শির্‌ক। মিলাদের মধ্যে দুই বিষয়ই আছে।
        তেমনি হজ্জ ইবাদত, আপনার মতে আমাদেরকে হুবহু রাসূল (সা.) ও তাঁর খলিফাগণের (রা.) মত কাজ করতে হবে। অন্য সকল ব্যবস্থাই বিদ’আত তথা হারাম। তাহলে হজ্জের বাহন ছিল উঠ, এখন আমরাও কি উঠে করে হজ্জে যাব, কারণ প্লেনে গেলে বিদ’আত হতে পারে যেহেতু হজ্জ ইবাদত? আশাকরি যুক্তি বুঝতে পেরেছেন।

        আল্লাহ্‌ ৭ জনকে কিয়ামতের মাঠে ছায়া দেবেন তার মধ্যে একজন হচ্ছে, সৎ শাসক। অবশ্যই শাসন কর্ম চালানো ইবাদত। শাসন কর্মের সংবিধান হবে কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ্‌। তাই যুদ্ধ করতে হবে, তখন যুদ্ধ হয়েছে তলোয়ার দিয়ে, এখন হবে রাইফেল দিয়ে, প্লেন দিয়ে। এরূপ অনেক কিছুই পরিবর্তন হবে কিন্তু, মূল নিয়মনীতির কোন পরিবর্তন হবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) আমাদের পরিপূর্ণ দ্বীন ব্যবস্থা দিয়ে গেছেন।

        তাই সারাংশ হচ্ছে: শাসন কাজ ইবাদত এবং এতে কিছু স্থান আছে যা যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরিবর্তন হবে।

      • জাযাকাল্লাহ! আমার ধারনা সুস্পষ্ট করার জন্যে। শাসক নির্বাচনের সুন্নত তরিকা কী?

        • উত্তর আপনিই বলুন, ক্ষেত্র কয়েকটি হবে।
          ১. দেশ অমুসলিমের হাতে আছে, সেই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কি?
          ২. মুসলিম শাসক আছে, সেই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কি?
          ৩. মুসলিম শাসক মারা গিয়েছে, সেই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কি?
          ইত্যাদি…

        • ১. দেশ অমুসলিমের হাতে আছে, সেই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কি?
          > অহিংস বিপ্লব। বিপ্লবের নেতাই হবেন শাসক।

          ২. মুসলিম শাসক আছে, সেই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কি?
          > কোনো পরিবর্তন না!

          ৩. মুসলিম শাসক মারা গিয়েছে, সেই ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া কি?
          > শাসকের ওসিওত মুতাবেক হবে। নয় তো মুয়া’মলাত, যেকোনো ভাবে হতে পারে! তবে উম্মতের মেন্ডেট বিহীন শাসক হবে জালিম শাসক।

          • ১,২, ইনশাআল্লাহ্‌ ঠিক বলেছেন…
            শাসকের ওসিয়ত যদি হয় তার ছেলে তবে সমস্যা আছে কি? নাকি হারাম হবে?

          • শাসক হবার যে যোগ্যতা গুলোর কথা নবী করীম (সা.) বলে গেছেন ছেলের মধ্যে যদি সেই গুণাবলী থাকে তবে তা হালাল, নয় তো হারাম।

  11. বিগত বাদশা ফাহাদ যখন মারা যায় তখন তার আপন ভাই কিন্তু রাজ হয় নি হয়েছে বর্তমানের আব্দুল আজিয, ফাহাদের অন্য মায়ের ছেলে। আব্দুল আজিয মারা গেলে হয় তোবা ফাহাদের আপন ভাই রাজা হবে। তাহলে মূলত রাজার ছেলে রাজা হলে সমস্যা নেই।

    অনেকে বলতে পারে যে রাজার ছেলের চেয়েও যোগ্য ব্যক্তি থাকলে সেই তো রাজা হবে। চার খলীফার একজনের একটি ছেলে ছিল, যিনি তার পরে খলীফা হওয়ার যোগ্যতা সব থেকে বেশি রাখতেন, কারণ বিশেষ করে রাসূলুল্লাহ্‌ (সা:) তার জ্ঞান বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দুয়া করে ছিলেন, দুয়াটি ছিল ‘আল্লাহ্‌ হুম্মা আল্লেম’নাল কিতাব ওয়া ফাক্কিহু ফিদ’দিন’। কিন্তু তার পিতা তাকে খলীফা করতে নিষেধ করে জান, বলে জান তার কাছ থেকে যেন পরামর্শ নেওয়া হয়। অর্থাৎ তিনি সূরা কিমিটির একজন সদস্য বানিয়ে রেখে যান তার ছেলেকে। তার থেকে প্রমাণ করে যে, একজন যোগ্য লোক রাজা না হয়ে, অন্য জনও রাজা হতে পারে। তাতে কোন সমস্যা নেই।

    বিগত সূরা কমিটির প্রধান, ইবন বায (রহ:) সকল ফতোয়া নির্ধারণ করতেন। বাদশা ফাহাদ তা বাস্তবায়ন করতেন। যেমন মেয়েদের গাড়ী চালানো নিসিদ্ধ করা ইত্যাদি আরো অনেক।

    যেমন সৌদিতে বর্তমানের প্রধান মুফতিকে বলা হচ্ছে মেয়েদের সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স যা হচ্ছে ১২ বছর, তা থেকে বৃদ্ধি করার জন্য। যেমন অন্যান্য বিশ্বে যা হচ্ছে ১৮। কিন্তু তিনি তা নাকচ করে দিয়েছেন। এখানে রাজার কোন হস্তক্ষেপ ছিল না। কারণ দলীল হচ্ছে আয়েশা (রা:) -এর বিয়ে হয়েছিল ৯ বছর বয়সে। অর্থাৎ হায়েয না হতে।

    • জাযাকাল্লাহ! অনেক কিছু জানতে পারলাম এই আলোচনার মাধ্যমে। একজন মুসলিম ও একইসাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একজন ছাত্র হিসেবে এই বিষয় গুলা সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়া আমার জন্যে অত্যন্ত জরুরী ছিল।

    • উল্লেখ্য, আমেরিকার ৫০টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্রের (আমেরিকা) অনেক রাষ্ট্রেই (State) বিয়ের বয়স সীমা ১৮-র নিচে (১৪/১৬)। তারা এটা করলে সমস্যা হয় না, কিন্তু আমরা মুসলিমরা করলেই সবার সমস্যা।

মন্তব্য করুন